কুড়িগ্রামে গত এক সপ্তাহে ৮ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দুই শিশু বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং অপর দুই শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে এসব শিশুদের বাড়িতে টানা জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে ব্যাথা বেদনা থাকায় পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি ৪ জন শিশু হচ্ছে, শহরের খলিলগঞ্জ এলাকার ওমর ফারুকের ১৫ মাস বয়সী শিশু আরশ, নাগেশ্বরীর মফিজুল ইসলামের এক বছরের মেয়ে মাহিয়া, জেলা শহরের নিমবাগান এলাকার মোফাজ্জলের ১৯ মাস বয়সি ছেলে ফাইয়াজ এবং উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বকুল মিয়ার দেড় বছরের মেয়ে মুনতাহা।
হাসপাতালে ভর্তি জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চাঁদনী বাজার এলাকার আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু মুনতাহার বাবা বকুল মিয়া জানান, অসুস্থ মেয়েকে প্রথমে উলিপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করাই। সেখানে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া গত দু’দিন ধরে এখানে চিকিৎসা করাচ্ছি।আইসোলেশনে ভর্তি দেড় বছরের শিশু আরশের বাবা ওমর ফারুক বলেন, শহরের খলিলগঞ্জ এলাকা থেকে এসেছি। গত এক সপ্তাহ ধরে ছেলে জ্বরে আক্রান্ত। প্রশাবে ইনফেকশন আছে। এছাড়া সারা গায়ে রেশ দেখা যাচ্ছে। ব্যাথায় বাচ্চাটা আমার ঘুমাতে পারছে না।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। আমরা সবার স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় টেস্ট করার জন্য পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত একজনের রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। আজ একজন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। বাকি ৬ জনের রেজাল্ট আমরা পাইনি। এই ৬ জনের মধ্যে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। বাকি দুইজন বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। আমাদের জেলার পর্যাপ্ত ওষুধপত্র আছে। রোগীর স্বজনদের ভীত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন তিনি।


