
বিশ্বকাপ ফুটবল, হিজরি নববর্ষ উদ্যাপন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালিমাখচিত পতাকার ব্যাপক ব্যবহার ও মিছিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামি চিন্তাবিদেরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, পবিত্র কালিমা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানের মূল ভিত্তি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে এসব পতাকার গণহারে ব্যবহার ইসলাম, মুসলিম সমাজ ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসব পতাকার ব্যাপক প্রচারের ফলে দেশ-বিদেশে নানা ধরনের ভুল ব্যাখ্যা ও নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আলেমরা বলেন, কালিমাখচিত পতাকা তৈরি ও উত্তোলন ইসলামে বৈধ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর ব্যাপক ব্যবহার প্রতিবেশী দেশ কিংবা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, হাদিস ও সিরাতের বর্ণনা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের সময়ে কালো, সাদা বা কালিমাখচিত পতাকা মূলত যুদ্ধক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতো। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে মিছিল বা সমাবেশে এ ধরনের পতাকা ব্যবহারের নজির পাওয়া যায় না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামি শরিয়তে সমাজে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে অনেক বৈধ কাজও পরিহার করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই পবিত্র কালিমার মর্যাদা রক্ষা এবং সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়াতে কালিমাখচিত পতাকার গণব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
সৌদি আরব ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় পতাকার উদাহরণ তুলে ধরে আলেমরা বলেন, এসব পতাকা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে গণহারে ব্যবহারের ফলে কালিমাখচিত পতাকা অবহেলিত বা পদদলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
বিবৃতিতে কালিমার মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার, ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ স্বাক্ষর ও সমর্থন জানিয়েছেন।


