খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাকবলিত হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন।
এ সময় তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই হাসপাতালটি যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের সেবায় ফিরে আসতে পারে, সেজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানান্তরিত আড়াই শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।
পরিদর্শনকালে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সবার এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালটিতে প্রায় আড়াইশো জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমটি স্থানান্তরিত রোগীরা বর্তমানে যেসব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, সেখানে গিয়ে তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখছে এবং চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করছে।
বিগত দিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হুইপ বকুল বলেন, সাধারণত এই ধরনের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী মানুষ সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং লুটপাটের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এবার প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করেছে।
পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে এবং ফায়ার সার্ভিসকে নির্বিঘ্নে কাজ করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জানমালের বড় ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতিগুলো চিহ্নিত করে তা সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ আবারও এখান থেকে চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।
খুলনাবাসীর এই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, গতকালের ঘটনা প্রমাণ করেছে যে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো কঠিন দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। স্থানীয় মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই যৌথ উদ্যোগ খুলনার ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকটে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ খুলনা গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের এই পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন এবং সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


